সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬
সাম্প্রতিক ফুটবল বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরগুলোতে খেলা শেষে স্টেডিয়ামের গ্যালারি নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার করে বিশ্বজুড়ে তুমুল প্রশংসা কুড়িয়েছেন জাপানি সমর্থকেরা। ‘সামুরাই ব্লু’ (জাপানি ফুটবল দল)-এর ভক্তদের এই পরিচ্ছন্নতা ও মার্জিত আচরণের ছবি বিশ্বমঞ্চে জাপানের এক অনন্য ও সুশৃঙ্খল ভাবমূর্তি তুলে ধরেছে। স্বয়ং ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাও (FIFA) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) তাদের এই ‘অনবদ্য শিষ্টাচার’-এর ভূয়সী প্রশংসা করেছে।
কিন্তু এই বৈশ্বিক প্রশংসার চাকচিক্যের আড়ালেই এবার ঘরের ভেতরের এক চরম বিপরীত ও হতাশাজনক বাস্তবতার চিত্র উঠে এসেছে খোদ জাপানেরই একটি ভাইরাল পোস্টে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বমঞ্চে জাপানি পুরুষদের যেমনটা আদর্শ ও পরিচ্ছন্ন ভাবা হয়, নিজেদের চার দেয়ালের ভেতরে তারা আসলে তেমনটা নন। প্রায় ১৯ লাখের বেশি বার দেখা ওই পোস্টে আন্তর্জাতিক উপাত্তের বরাত দিয়ে লেখা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক পরিমাপদণ্ড অনুযায়ী ঘরের কাজে জাপানি পুরুষেরা বিশ্বে সবচেয়ে কম সময় ব্যয় করেন।’
পোস্টটির সঙ্গে একটি অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গাত্মক চিত্র বা কার্টুনও যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, স্টেডিয়ামে অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে আবর্জনা পরিষ্কার করা এক জাপানি সমর্থক বাড়িতে ফিরে সোফায় গা এলিয়ে আরাম করছেন। অথচ তার ঠিক পাশেই ধোয়া কাপড়ের স্তূপ পড়ে আছে এবং তার স্ত্রী বা মা একা একাই রান্নাঘরের নোংরা বাসন মাজছেন। পোস্টটিতে বিশ্বমঞ্চে প্রশংসা পাওয়া সেই সমর্থকদের উদ্দেশে কটাক্ষ করে বলা হয়েছে, ‘অনুগ্রহ করে এই (পরিষ্কার করার) কাজটা বাড়িতেও করুন।’
জাপানের মন্ত্রিপরিষদ কার্যালয়ের দেওয়া ২০২১ সালের ওএইসিডি (OECD) উপাত্ত অনুসারে, জাপানি পুরুষদের ঘরের কাজে অংশগ্রহণের হার আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত হতাশাজনক। কেনাকাটা, গৃহস্থালির দৈনন্দিন কাজ এবং পরিবারের শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের দেখভালের মতো ‘বিনামূল্য শ্রম’-এর (Unpaid Labor) ক্ষেত্রে জাপানি নারীরা পুরুষদের চেয়ে গড়ে ৫.৫ গুণ বেশি সময় ব্যয় করেন।
উন্নত বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এই লিঙ্গভিত্তিক কাজের ব্যবধান রীতিমতো আকাশচুম্বী। উদাহরণস্বরূপ:
যুক্তরাজ্য: নারীরা পুরুষদের চেয়ে ১.৮ গুণ বেশি সময় দেন।
ফ্রান্স: নারীরা পুরুষদের চেয়ে ১.৭ গুণ বেশি সময় দেন।
যুক্তরাষ্ট্র: নারীরা পুরুষদের চেয়ে ১.৬ গুণ বেশি সময় দেন।
বিশ্বমঞ্চে স্টেডিয়াম পরিষ্কার করার এই উদ্যোগকে অনেকে জাপানের পরোপকারী সংস্কৃতির অনন্য নিদর্শন হিসেবে দেখলেও, সমালোচকদের একাংশ একে কিছুটা ‘লোকদেখানো’ বা ‘প্রদর্শনীমূলক’ আচরণ হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। ভাইরাল হওয়া এই পোস্টটি নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যেও চলছে তুমুল বিতর্ক ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
এক নারী ব্যবহারকারী রসাত্মক সুরে মন্তব্য করেছেন, "যেসব স্ত্রীরা ঘরের কাজ না করা স্বামীদের নিয়ে ভুগছেন, তাদের উচিত স্বামীদের বাড়িতেও সবসময় 'সামুরাই জাপান'-এর জার্সি পরিয়ে রাখা। হয়তো তাহলে জার্সির লজ্জায় তারা ঘরের কাজে হাত দেবে।" তবে এর বিপরীতে পুরুষদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, "এটি বড্ড বেশি ঢালাও মন্তব্য—সব জাপানি পুরুষ কিন্তু ঘরের কাজে এমন অলস নন।"
সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, জনসাধারণের সামনে সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা করা—যাকে জাপানি সংস্কৃতিতে ‘তাতেমায়ে’ (Tatemae বা বাহ্যিক রূপ) বলা হয় এবং ঘরের ভেতরের আসল সত্য—যাকে ‘হন্নে’ (Honne বা ভেতরের সত্য) বলা হয়; এই দুইয়ের মধ্যকার চরম বিপরীত চিত্রই এখন আধুনিক জাপানি সমাজের অন্যতম প্রধান দ্বন্দ্ব ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
| দেশ বা রাষ্ট্র | পুরুষের তুলনায় নারীদের ব্যয় করা বাড়তি সময় (গড়ে) |
| জাপান | ৫.৫ গুণ বেশি |
| যুক্তরাজ্য | ১.৮ গুণ বেশি |
| ফ্রান্স | ১.৭ গুণ বেশি |
| যুক্তরাষ্ট্র | ১.৬ গুণ বেশি |
আন্তর্জাতিক সমাজ ও সংস্কৃতি বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
জাপানের সমাজব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক বিচিত্র খবর ও ট্রেন্ডিং সোশ্যাল মিডিয়া খবরের দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |